বুধবার, ০৩ Jun ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন

News Headline :
ছাগলকাণ্ডের মতিউরকেও ছাড়িয়ে গেলেন এনবিআরের সহিদুল: ঢাকায় ৫৩ ফ্ল্যাট সম্পদ ৪০০ কোটির! রাজশাহী নগরীতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিন হামলা নারীসহ আহত ৪ রাজধানীর শিশু রামিসা হত্যা মামলায় বোন রাইসা আক্তারের ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্যগ্রহণ দ্রুত সময়ের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে-পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম পাবনা জেলা ট্রাফিক পুলিশের সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পাবনার বেড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দেশী অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন পাবনার ভাঙ্গুড়ায় তরঙ্গ সাংস্কৃতিক ও নাট্য গোষ্ঠীর উদ্যোগে ঈদ আনন্দ মেলা ও সার্কাস অনুষ্ঠিত পাবনার চাটমোহরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদৎ বার্ষিক পালিত পাবনার ঈশ্বরদীর লোকোশেড মাদকের আড্ডা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে কুষ্টিয়ায় ২ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১ আহত-৩২

শশুর বাড়ীতে প্রবাসী জামাইকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

Reading Time: 2 minutes

কামরুল হাসান, ময়মনসিংহ :
নেত্রকোণার মদনে চাঞ্চল্যকর প্রবাস ফেরত স্বামী এখলাস মিয়া (৩৩) কে পেট্রোল ঢেলে
পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় মূলহোতা স্ত্রী মোছা. মুক্তা আক্তার (২৮) ও শাশুড়ি মোছা. লুৎফুন
নেছা (৫০) কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৪, ময়মনসিংহ। বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে র‌্যাব-১৪, সদর ব্যাটালিয়ন এর উপ-পরিচালক অপারেশনস্ অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন এর নেতেৃত্ব একটি চৌকস আভিযানিক দল ২৩ নভেম্বর (বুধবার) রাত ১ টার সময় ময়মনসিংহ মহানগরীর সানকিপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হত্যা মামলার দুই আসামীকে গ্রেফতার করে। ময়মনসিংহ সদর ব্যাটালিয়নের উপপরিচালক ও অপারেশনস অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন। র‌্যাব সূত্র জানায় ছয় বছর পূর্বে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার পাছার (মাইজ পাড়া) গ্রামের ভিকটিম এখলাছ মিয়া পার্শ্ববর্তী একই জেলার মদন উপজেলার বাড়রী (সুতিয়ার পাড়) গ্রামের মো. খাইরুল ইসলামের কন্যা মোছা. মুক্তা আক্তারকে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে করেন। বিয়ের এক বছর পর ভিকটিম এখলাস মিয়া জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে পাড়ি জমান। ভিকটিমের বিদেশে থাকা কালীন তার স্ত্রী মুক্তা বাবার বাড়ীতে ছিল। ভিকটিম পাঁচ বছর বিদেশ থেকে উপার্জিত সমুদয় অর্থ তার স্ত্রীর কাছে পাঠান। পাঁচ বছর প্রবাস জীবন কাঠানোর পর ভিকটিম নিজ দেশে ফিরেন এবং শশুড় বাড়ীতে যায়, টাকা পয়সার হিসাব চায় এবং স্ত্রীকে নিজ বাড়ীতে নিয়ে আসার প্রস্তাব দেয়। ভিকটিমের স্ত্রী তার বাড়ীতে আসতে অস্বীকৃতি জানায় এমনকি টাকা পয়সাও দিবে না বলে জানিয়ে দেয়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে মুক্তা ঝগড়া করে বাড়ী থেকে চট্টগ্রাম চলে যায় এবং একটি গার্মেন্টসে চাকরী নেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়তে থাকে। ভিকটিম তার স্ত্রীকে অন্য কারো সাথে প্রেমের সম্পর্ক জড়িয়েছে ভেবে সন্দেহ করতে থাকে। সম্পর্কের চরম অবনতি হলে হঠাৎ একদিন শশুড় বাড়ীতে ভিকটিমকে হাত পা বেঁধে পেট্রোল ঢেলে দিয়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে প্রায় তার শরীরের ৮৫ ভাগ পুড়ে যায়। অতঃপর স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে ভিকটিম এখলাছ মিয়াকে চিকিৎসার জন্য মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিকসার্জারি ইনস্টিটিউট, ঢাকায় প্রেরণ করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ই নভেম্বর ভিকটিম মৃত্যুবরন করে। ভিকটিম এখলাছ মিয়াকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় নেত্রকোণার কেন্দুয়া থানা এলাকাসহ সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের চাচাতো ভাই মো. জসিম উদ্দিন (৫২), পিতা- মৃত
আলী উছমান খান, গ্রাম -পাছার (মাইজ পাড়া), থানা- কেন্দুয়া, জেলা- নেত্রকোণা বাদী হয়ে স্ত্রী, শশুর, শাশুড়ী সহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন আসামীর বিরুদ্ধে নেত্রকোণার মদন থানায় একটি হত্যার চেষ্টা মামলা দায়ের করে। মামলা নং-১২, তারিখঃ ১৫/১১/২০২৩ খ্রি., ধারাঃ৩২৬/৩০৭/৩৪ পেনাল কোড – ১৮৬০। পরবর্তীতে, ভিকটিম এখলাছ মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করিলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। গেফতারকৃত আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার নিমিত্তে নেত্রকোণা জেলার মদন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Design & Developed BY Hostitbd.Com